প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সংবাদপত্রটি রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানে মার্কিন বিমান হামলা “আসন্ন নয়”। কারণ, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে ইসরায়েল, আরব মিত্র দেশগুলো এবং ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা যথাযথভাবে সুরক্ষিত।
গত কয়েক সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি “বিশাল ও সুন্দর নৌবহর” মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি করানো যায়।
প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, পেন্টাগন বর্তমানে জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে অতিরিক্ত থাড (THAAD) ব্যাটারি ও প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার পর তেহরান ইসরায়েলের পাশাপাশি কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। তবে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ায় মার্কিন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি সীমিত ছিল।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি রবিবার সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সুদূরপ্রসারী পরিণতি হবে।
“তাদের জানা উচিত, যদি তারা এবার যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে সেটি একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে,” বলেন খামেনি।
এর জবাবে ট্রাম্প খামেনির মন্তব্যকে উড়িয়ে দিলেও কূটনীতির দরজা খোলা রাখেন।
“অবশ্যই তিনি এটাই বলবেন,” বলেন ট্রাম্প। “আশা করি আমরা একটি চুক্তি করব। যদি চুক্তি না হয়, তাহলে আমরা খুঁজে বের করব তিনি ঠিক ছিলেন কি না।”
এদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি, যিনি সম্প্রতি মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথে অগ্রগতি হচ্ছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকেও সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, “যেকোনো বলপ্রয়োগমূলক পদক্ষেপ কেবল এই অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা বাড়াবে এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।”
সব মিলিয়ে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আপাতত সামরিক হামলার বদলে চাপ ও প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতির দিকেই বেশি ঝুঁকছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।